আওয়ামী সরকারের তাঁবেদার সরকারী বাহিনী গুলোর গোপন আদালত, ডিটেনশন সেন্টার গুলো অবিলম্বে বন্ধ করা হউক

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, উ এস এ ভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা, এর মতে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ২০১৩ সাল থেকে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে গোপন স্থানে আটকে রেখেছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই সরকার বিরোধী দল গুলোর নেতা কর্মী। ২০১৬ সালেই অন্তত ৯০ জনকে গুম করা হয়েছে। বেশিরভাগ আটক কৃতকে আদালতে হাজির করা হয়েছে এক মাস বা এক সপ্তাহ গোপন স্থানে আটক রাখার পর।এরকম আটক কৃত একুশ জনকে পরে হত্যা করা হয়েছে এবং নয় জনের কোন হদিস আর জানা যায় নাই। উপরোক্ত ৯০ জনের মধ্যে ৩ জন হচ্ছেন মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড প্রাপ্ত তিন জন নেতার তিন সন্তান। এদের মধ্যে একজন নিখোঁজ হবার ছয় মাস পরে ফিরে আসেন। অপর দুই জনের আজ পর্যন্ত কোন খোঁজ জানা যায় নাই।রিপোর্ট টিতে উল্লেখ বি এন পির উনিশ জন নেতাকর্মী যাদেরকে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে আটক করা হয়। সরকারের দুইটি সংস্থা এই ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এরা হল ডি বি(ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ) এবং রেব(রেপিড একশন বেটালিওন)। এই বছরেই অর্থাৎ ২০১৭ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই ইতিমধ্যে ৪৮ জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

একটি সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে হলে ঠিক কত মানুষকে অদৃশ্য হয়ে যেতে হয়, তার মূল্য দিতে হয়? বাংলাদেশে প্রতিটি সরকারের শাসনামলে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। আমরা নীরব থাকতে পারি না। বিশেষ করে বাংলাদেশে র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়নের বিচার বর্হিভূত ক্ষমতার অপপ্রয়োগ যে কোন সময়ের থেকে মাত্রা ছাড়িয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেছেন, ”মানুষজনকে আটক করে তারা দোষী না নির্দোষ নির্ণয় করা, শাস্তি নির্ধারণ করা, এমনকি তারা বেঁচে থাকবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও যেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের যেন এই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।”

এভাবে যদি গোপন আদালতে অপরাধ নির্ধারণ করে বিচারবর্হিভূত খুন, গুম করা হয় তাহলে প্রচলিত আদালত ও বিচারব্যবস্থা থাকার কি দরকার? সংবিধান কি করছে? বিচারকরা কি করছেন? আইন-আদালত কি শুধু চুরি আর জমিজমার বিচারের জন্য বরাদ্দ? অর্থ, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক কারণে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর নিজের দেশের মানুষের উপর এমন নিপীড়ন একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চালাতে দেয়া যেতে পারেনা। অনেক পরিবার যেমন তাদের প্রিয়জন হারাচ্ছে, কেউ কেউ ভয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, এ ধরনের মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা যেমন প্রত্যক্ষভাবে ঘটছে তেমনি সমগ্র সমাজে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী। মানুষ ভয়ের পরিবেশের মধ্যে বাস করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এ অভ্যস্ত হয়ে পড়াটা মানুষকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চালিয়ে আবার তাদের গোপন কারাগারে নিক্ষেপ করে দেয়া হচ্ছে। গুম-খুন করে নিজ দেশের মানুষকে গোপন আদালতের বিচারে দীর্ঘদিন আটক রাখা নিজ দেশ ও মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া কিছু নয়। একটি নিরাপদ-সুন্দর-শৃঙখলাবদ্ধ সমাজ গঠন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার হওয়া উচিত। এবং সেজন্য দীর্ঘদিন সমাজের ভেতরে প্রবেশ করে কাজ করতে হয়। ব্যক্তি উদ্যোগে, প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে অনেকের সেরকম কাজ নানা ক্ষেত্রে বহাল আছে। কিন্তু রাষ্ট্র যখন মানবিক হয়ে এগিয়ে আসে তখন মানবিক রাষ্ট্র গঠনের কাজ মানবিক মূল্যবোধের দেশ নির্মাণের কাজ তরান্বিত হয়। যদি তার উল্টো হয় তার মানে হল ক্ষমতাসীনরা বা সরকার রাষ্ট্রকে বা দেশকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করছে। আর তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ স্বীকার হচ্ছে মানুষ।

অবিলম্বে এইসব তথাকথিত গোপন আদালত এবং ডিটেনশন সেন্টার গুলো বন্ধ করতে হবে।যারা নিখোঁজ রয়েছেন তাদের ফিরিয়ে এনে প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করা হউক যদি সত্যি ই তারা অপরাধি হয়ে থাকেন।প্রতিটি জীবন ই মূল্যবান এই সমাজের কাছে। এভাবে বিচার করার নামে সরকারী সংস্থা দ্বারা জোরপূর্বক অপহরণ, খুন কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.