আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, এবার হয়েছে তাঁবেদার পুলিশ এর দ্বারস্থ

ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামী শাসন আমলের পতনের পর বাঙ্গালী জাতিকে শাসন করে ব্রিটিশরা। অনেক দিন শাসনের পরেও বাঙ্গালীকে সহজে বশে আনতে পারেনি ব্রিটিশ শাসকরা। নির্যাতন আর অত্যাচার এর সুদীর্ঘ সময়ের পরবর্তীতে অনেকটা পালিয়ে এ দেশ ছাড়ে জালিমেরা। কিন্তু যাবার সময় তারা এমন এক শাসন ব্যবস্থা তারা রেখে যায় যার কারণে এই বাংলার জনগণ আজও শোষিত হচ্ছে। যার পরিক্রমাই পুরো ভারত বর্ষই বিভক্ত হয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়।

 

সেই ধারাবাহিকতা এখনও চলছে। শাসকের কাছে বিচারের দাবিতে রাজপথে রক্ত ঝরছে! এখনও মাজলুমের হাহাকারে বাতাস ভারী হয়ে বয়ে যায়, পুলিশি নির্যাতনের নির্মম দৃশ্য দেখি চোখের মণি কোঠায়! দুর্ঘটনায় ছাত্রমৃত্যুর সংবাদে নিষ্ঠুর মুখে হাসতে দেখি কোন জনপ্রতিনিধিকে, মন্ত্রিত্বের আসন টিকিয়ে রাখতে আবার ক্ষমাও চায়! কিন্তু, নিষ্ঠুর ঐ হাসি মানবহৃদয় কি কখনো ভুলতে পারে? কখনো কি ভুলতে পারে অপরাধীর বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামা ছাত্রদের উপর পুলিশি নির্যাতনের কথা! আর, কেনই বা অপরাধীর বিচার দাবি করতে হবে শাসকের কাছে? তবে শাসকের কাছে কি অপরাধ সুস্পষ্ট নয়?! কেন একের পর এক দুর্ঘটনার পরও শাসকগোষ্ঠীর তৎপরতা কেবলই নিষ্ঠুর সেই হাসির মত! কেন সবকিছু জেনে-বুঝেও কথায় ও বক্রিতায় ঘটনাকে হালকা করার ব্যর্থ চেষ্টা অব্যহত! কেন রাস্তাঘাটে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, বেহায়াপনা? আর  কেনই বা ন্যায্য আন্দোলনে পুলিশি লাঠি চালনা? যখন ছোট্ট কিশোর শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভাই ও বোন হত্যার বদলা চায়; তখন জনগণের তথাকথিত বন্ধু! পুলিশ কেন সন্ত্রাসী হামলা চালায়? যে দেশে শিক্ষকগণের বেত হাতে ক্লাসে প্রবেশ করতে মানা; সে দেশে পুলিশ কেন দেয়, শিক্ষার্থীদের উপর সন্ত্রাসী হানা?

 

জানি, এ প্রশ্নগুলোর উত্তর আমি পাবোনা; হয়তো তাদের দেওয়া স্বার্থন্বেষী উত্তরে সন্তুষ্টও হওয়া যাবে না। তবে প্রধানমন্ত্রী হতে যত মিথ্যাবাণীই আসুক; মন্ত্রীরা মৃত্যুসংবাদে যত উল্লাসিতই হোক; আমার কিশোর ভাইয়েরা আমাকে আশান্নীত করেছে; এই দেশ, এই মাটিকে তারা আবার নতুন করে ঢেলে সাজিয়েছে; একটি নতুন সুন্দর পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে! পৃথিবীতে প্রতিটি নতুনত্বের ছোঁয়া আসে নতুনদের কাঁধে ভর করে; যখন তারা রোদ-বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে লড়ে যায় দেশের তরে।

 

একসময় আমি হতাশ ছিলাম,  নিরাশ হয়েছিলাম, আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম; ভেবেছিলাম, এই ফেসবুক, ইউটিউবে ডুবে থাকা শিশু-কিশোরেরাও কি কখনো জেগে উঠবে কিংবা অন্যদেরকে জাগাবে? আমার ভুল ভাঙ্গলো, তারা জেগে উঠলো এবং অন্যদেরকেও জাগিয়ে তুললো। দেশে অন্যায় চলছে, মাজলুমের আর্তনাদ ভারী হয়ে আসছে! তবুও কি আর বসে থাকা সম্ভব!?

 

তারা মন্ত্রী-পুলিশদেরকে ন্যায় ও সততার সবক শিখালো; সড়কে কীভাবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, হাতে-কলমে শিখিয়ে দিলো! রাস্তায় সব ড্রাইভারের লাইসেন্স চেক করা হলো, তবে অদ্ভুত বিষয়টা হলো- প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশের গাড়ির ড্রাইভারদেরকেই লাইসেন্সহীন পাওয়া গেল! ট্রাফিক আইন না মানার অপরাধে মন্ত্রীর গাড়িকে উল্টো পথে ফিরে যেতে বাধ্য করা হলো! কিন্তু, সরকারের কি আর সহ্য হয়! এখন তো রাস্তার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, কখন না জানি দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়! সরকারের মনে তার ভয়!

 

সেজন্যই এই কোমল মতি ছাত্রদের এই আন্দোলন কে দমন করতে এই জালিম সরকার মরিয়া হয়ে গেছে। সরকারের প্রভাবশালী, ক্ষমতাবান মন্ত্রী রাও বিচলিত হয়ে গেছে। কোটা আন্দোলনে যেভাবে দাবী মেনে নেয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আন্দোলন এর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল ঠিক একই ভাবে এই আন্দোলন এও তারা একই চাল চালতে চাচ্ছে।কিন্তু জনগণ এবার তাদের এই কানামাছি খেলা খেলতে দেবেনা। অন্যদিকে, সরকার পুলিশ কে প্রস্তুত থাকতে আগাম নির্দেশনা ও দিয়ে রাখছে। কেন এত আয়োজন? কেন এত ভয়? আসল মুখোশ খুলে যাবার ভয়ে সরকার আজ বিচলিত হয়ে পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.