পদত্যাগে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে ডি জি এফ আই অপহরণ করলো প্রধান বিচার পতি এস কে সিনহার বন্ধু অনিরুদ্ধ রায় কে

পারিবারিক বন্ধু অনিরুদ্ধ রায়কে ডি জি এফ আই অপহরণ করেছে সরকারের সাথে প্রধান বিচার পতি এস কে সিনহার বিরোধের কারণে। অনিরুদ্ধ রায় বাংলাদেশে বেলারুশ প্রজাতন্ত্রের অনারারি কনসাল এবং একই সাথে তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর এম এম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সরকারের সর্বোচ্চ কতৃপক্ষের নির্দেশে এই অপহরন। জানা গেছে, প্রধান বিচারপতিকে ফাঁসাতে তার নামে দুর্নীতি, টাকা পাচারের গল্প ও দলিল তৈরী করতেই অনিরুদ্ধকে অপহরন। খুব সহসাই সেগুলো তৈরী করে প্যদান বিচারপতিকে ব্লাকমেল করার চেষ্টা করা হবে। তবে সিনহা বাবু যেভাবে ক্ষেপে আছেন এবং তিনি যে কঠের প্রকৃতির মানুষ, তাতে কতটা কাজ দিবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে একজন কূটনীীতককে এভাবে অপহরনের শিকার হওয়ায় কূটনৈতিক পাড়ায় তোলপাড় পড়ে গেছে।
গত রবিবার বিকেলে অনিরুদ্ধ কুমার রায়কে গুলশান থেকে অপহরন করার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও তার কোন সন্ধান দিতে পারেনি পুলিশ। অনিরুদ্ধ রায়ের ভাগ্নে কল্লোল রায় ওই ঘটনায় গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পরিবারের একটি সূত্র জানায়, রোববার বিকালে গুলশান-১-এ নিজের গাড়িতে ওঠার সময় ৭-৮ জন লোক এসে নিজেদের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয় দিয়ে অনিরুদ্ধ কুমার রায়কে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, বিকাল ৪টার দিকে গুলশান-১ থেকে অনিরুদ্ধ কুমার রায় নিখোঁজ হয়েছেন বলে জিডিতে বলা হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়কে ৭২ গুলশান এভিনিউতে ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে থেকে ২৭ আগস্ট ধরে নেওয়া হয়। ইউনিয়ন ব্যাংকের কার্যালয় থেকে ৯০ মিটার দূরেই গুলশান ১ নম্বর গোলচত্বর। গুলশান-১-এ সিগন্যাল পড়লেই এই রাস্তার গাড়ির সারি ব্যাংকের সামনে পর্যন্ত চলে আসে। ব্যাংকের সামনে দাঁড়ানো নিরাপত্তাকর্মী ফকরুল বলেন, তিনি দেখেননি তবে শুনেছেন এখান থেকে এক সাহেবকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরে তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারদলীয় একজন সাংসদের সঙ্গে অংশীদারের ভিত্তিতে তাঁর ব্যবসা ছিল। সম্প্রতি সেই ব্যবসা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ব্যবসার অংশীদারত্ব ভেঙে যায়। তদন্তে বিষয়টিকে সামনে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ ঘটনারও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ রয়েছে। তবে কোনো পেশাদার অপরাধী চক্র তাঁকে ধরে নিয়ে যায়নি বলেই মনে করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। অপহরণের ধরন-ধারণ দেখে তাঁদের মনে হয়েছে, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকদেরই এ ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হয়েছে। আর অপহরণকারীরা অপহরণের সময় নিজেদের একটি বিশেষ সংস্থার সদস্য হিসেবেও দাবি করেছিলেন।
জানতে চাইলে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ব্যবসায়িক ঝামেলার একটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) উল্লেখ করা হয়েছে, বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে তিনি ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে বের হওয়ার সময় গুলশান-১-এ দাঁড়িয়ে থাকা রুপালি রঙের একটি মাইক্রোবাসে থাকা তিনজন লোক তাকে তুলে নেন। অনিরুদ্ধর গাড়িচালক শাহ আলমসহ অন্যরা পুরো বিষয়টি দেখেছেন এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের সিসি টিভি ক্যামেরায় এই ফুটেজ ধরা পড়েছে।
স্বাস্বতি রায়, অনিরুদ্ধ রায়ের সহধর্মিণী, এই ব্যাপারে বিস্তারিত কোন কিছু বলতে আগ্রহ দেখান নি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, অনিরুদ্ধ রায় সেই সময়ে ব্যাংক এ গিয়েছিলেন একটি ঋণ অনুমোদনের ব্যাপারে কথা বলতে। স্বাস্বতি কাঁদতে শুরু করেন যখন টাকে প্রশ্ন করা হয় যে, এই ব্যাপারে কাউকে সন্দেহ করেন কি না? তিনি শুধু বলতে থাকেন, “আমি কোন কিছু বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাই না। আমরা যে ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি তা শুধু আমরাই জানি। আপনাদের সহ পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার একটাই অনুরোধ আপনারা অনিরুদ্ধ কে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন”।

Leave a Reply

Your email address will not be published.