বিএনপির রাজনীতি প্রতিহিংসার নয়

মিথ্যাচার আর প্রতিহিংসার রাজনীতি কখনই বিএনপির রাজনীতি ছিল না। হবেও না।

আজ ইকবাল-কবির-মামুন গং সর্বত্র প্রচার করে বেড়ায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে নাকি শেখ মুজিবুর রহমানের নাম নেয়া নিষিদ্ধ ছিল। কোথাও নাকি শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু লেখা যেত না। কোন পত্রিকায় নাকি সাত মার্চ, পনের আগস্ট নিয়ে লেখা প্রকাশ করা হতো না।

এই পেপার কাটিংটা ১৯৮০ সালের মূলধারার পত্রিকা দৈনিক সংবাদের প্রথম পাতা থেকে নেয়া। এই সংবাদটা কয়েকটা কারণে গুরুত্বপূর্ণ।

০১) জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সাতই মার্চে শেখ মুজিবুর রহমানের ২ কলাম-জুড়ে ছবি ছাপানো যেত;

০২) প্রতিবেদনটা প্রায় ৫০০ শব্দের। এইটা সেই যুগের পত্রিকা যখন পুরো পত্রিকা ছিল ৮ পৃষ্ঠার;

০৩) পত্রিকায় খেয়াল করুন “বঙ্গবন্ধু পরিষদ” নামে একটা সাব-হেডিং আছে, অর্থাৎ যেসময় নাকি শেখ মুজিবুর রহমানের নাম নেয়া নিষিদ্ধ ছিল এবং তাঁকে বঙ্গবন্ধু ডাকা যেত না তখন “বঙ্গবন্ধু পরিষদ” গঠন করে রীতিমত ঘটা করে উৎসব পালন করা হতো সাতই মার্চ;

০৪) আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এমনকি মুক্তিযোদ্ধা সংসদও সাতই মার্চ উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য উৎসব আয়োজন করতে পারতো।

এবং শুধু ১৯৮০ সালেই না, ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত, এবং পরবর্তীতে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ধুমধাম করে অনুষ্ঠান উদযাপন করেছে, পার্টির কর্মকান্ড চালিয়েছে। কেউ কোথাও বাঁধা দেয়নি। শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন হয়েছে, তাঁকে নিয়ে বই প্রকাশ করা হয়েছে, কেউ বাঁধা দেয়নি। বেগম জিয়া সরকারের অনুদানে তৈরি “আগুনের পরশমণি” চলচ্চিত্রে সাতই মার্চের ভাষণ প্রচার করা হয়েছে, কোন সেন্সর বোর্ড তা আটকায়নি।

অথচ আজকে ২০১৮ সালে বিএনপির নামে অপবাদ দেয়া হয়। বিএনপিকে কোন অনুষ্ঠান আয়োজন করতে দেয়া হয় না। শহীদ জিয়াকে নিয়ে কোন টিভি চ্যানেল অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারে না। তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার করলে সেই টিভি চ্যানেলের মালিককে কারাগারে ভরা হয়।

আসলে এই ইকবাল-কবীর-মামুন গং বর্তমান সরকারের দমননীতির কারণে একটা হীনমন্যতায় ভোগে। তাঁরা জানে জিয়ার সময় তাঁরা যেই স্বাধীনতা ভোগ করতো তাঁর ১০০০ ভাগের একভাগ স্বাধীনতাও এখন নাই এই দেশের মানুষের।

তাই এই নোংরামিকে জাস্টিফাই করার জন্য তাঁরা এইসব গল্প ফেঁদে তরুণ প্রজন্ম যাদের তখনও জন্ম হয় নাই তাদের বোকা বানায়। তাঁরা বলে এখন যেমন করা হয়, আগে আমাদের সাথেও এমন হত। শোধ-বোধ হচ্ছে। আর আমাদের বোকা তরুণ প্রজন্ম এই যুক্তি নিয়ে বগল বাজায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.