দেশজুড়ে অরাজকতা ও অথনৈতিক ক্ষতি

আমাদের চারপাশে চোখ মেলে তাকালেই কিংবা কানটা একটু খাড়া করলেই আমরা দেখতে এবং শুনতে পাই দেশজুড়ে অরাজকতা চলছে। চলছে মারামারি, হানাহানি, খুনাখুনি, কুপাকুপি। এগুলো কারা, কেন এবং কিভাবে করছে সরকারের নাকের ডগা দিয়ে? সরকার যেনে বুঝেই বা চুপ করে আছে কেন? নাকি এসব ঘটনার আড়ালে কোন গভীর ষড়যন্ত্র চলছে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর জন্য এমন অনেক কথাই আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্ত এর কোন সমাধান হচ্ছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায়ই শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে মানব বন্ধন করতে দেখা যায় এটার বিচার চাই, ওটার বিচার চাই, এটা দিতে হবে, ওটা দিতে হবে, আমাদের দাবি মানতে হবে। এসব করে হাজারও ছাত্র-ছাত্রীর সময় অকারনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যে সময় তাদের লাইব্রেরীতে থাকার কথা, যে সময় তাদের গবেষণা করার কথা, যে সময় তাদের ক্লাস করার কথা সে সময় তারা রাজপথে নেমে বলছে, আমার ভাইয়ের / বোনের ধর্ষনের/ হত্যার বিচার চাই। কিন্ত কেন এমন হচ্ছে? এই দায় কার? প্রশাসন কেন কোন আন্দোলন না হলে সক্রিয় থাকে না? শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, দেশের প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে আজ বিচার চাওয়ার জন্যে মাঠে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা । যে সময়ে তাদের দেশের উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করার কথা সে সময়ে তাদের দিনের পর দিন রাতের পর রাত রাস্তায় নেমে বলতে হয় আমার ভাইয়ের রক্তের প্রতিশোধ চাই, আমার বোনের ধর্ষনের বিচার চাই। এর থেকে বড় ব্যর্থতা রাষ্ট্র বা সরকারের জন্য আর কি হতে পারে?
কোথাও হত্যা, ঘুম, ঘুষ, ধর্ষণ, মারামারি হওয়া মাত্রই দেশের প্রশাসন তা আপনা-আপনিই জানতে পারে। জানার পরও তারা কেন ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় ? কেন শিুশুদের রাস্তায় এসে প্লাকার্ড হাতে নিয়ে বলতে হয়,বিচার না পেলে সকাল-সন্ধ্যা মানব বন্ধন চলবে। দেশজুড়ে চলছে নানা ধরনের অপকর্ম, হত্যাকান্ড এবং গুমের ঘটনা। এর কয়টির বিচার করতে পেরেছে প্রশাসন? এই বিষয়গুলো দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবণতির বিষয়টি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের সহিংসতা বন্ধে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে কিছু কিছু পুলিশ অফিসার জিডি নিচ্ছেন না। এভাবে একটি অপরাধকে উপেক্ষা করার মাধ্যমে অন্যান্য অপরাধকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে সহায়তা করা হচ্ছে। হত্যামামলার অচলবস্থা এবং বিচার না হওয়া খুনীদের আরো বেপরোয়া করে তুলছে। দুষ্কৃতিকারী কর্তৃক নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের টার্গেট করে খুন করা অথবা তাদের উপর আক্রমণ করাটা দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের উপর মারাত্বক প্রভাব ফেলছে।
দেশের কাংখিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পুর্বশর্ত হচ্ছে সুশৃংখল রাজনৈতিক অবস্থা এবং ভালো আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি। দেশের ব্যবসা বাণিজ্য স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যবসা বান্ধব পরিবেশের জন্য মুখিয়ে আছে। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত অবণতির দিকে যাচ্ছে।  আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবণতি এবং হিংসাত্মক রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি এবং ব্যবসা বানিজ্য পিছিয়ে পরতে বাধ্য হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.