ছাত্ররাজনীতির স্বাধীনতা প্রয়োজন

ক্ষমতাসীনেরা যুগে যুগে তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে ছাত্র সংগঠনকে ব্যবহার করে এসেছে এবং এখনো করছে৷ আর এই মানসিকতার কারনেই ছাত্র রাজনীতি নিয়ে সংকট শুরু হয়েছে৷ ৯০-এ স্বৈরাচারের পতনের পর এটা আরো প্রকট হয়েছে৷ তার আগে এরশাদ ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে চেয়েছিলেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থামাতে৷ তবে একটি বা দু’টি ছাত্র সংগঠনের অপরাজনীতির কারণে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা হবে মাথাব্যথার জন্য মাথা কাটার মত৷ তাদের অপরাজনীতি বন্ধ করতে হবে৷
ছাত্র রাজনীতি হতে হবে স্বাধীন। ছাত্রদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ প্রয়োজন তা না হলে তারা দেশের নেতৃত্ব দেবেন কিভাবে৷ কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন বা তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ছাত্র রাজনীতি কারো কাছেই কাম্য নয় কেননা রাজনৈতিক দলের মদদপুষ্ট হয়ে তারা হত্যা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকান্ডে লিপ্ত হয় আর  এগুলো কখনোই ছাত্র রাজনীতি হতে পারে না৷
ছাত্ররা করবেন আদর্শিক রাজনীতি৷ তারা পরে জাতীয় রাজনীতিতে গিয়ে ওই আদর্শের জন্য কাজ করবেন৷ আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ চালু থাকলে ইতিবাচক ছাত্র রাজনীতির ধারা চালু হবে৷ সম্প্রতি বুয়েটে ছাত্র রাজনীতির নির্মমতায় প্রাণ হারিয়েছ আবরার নামের এক ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র। তার অপরাধ ছিলো সে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে ছিলো না আর তাই শুধুমাত্র সে ভিন্ন দলের বা ভিন্ন মতাদর্শের হতে পারে ভেবে নিয়েই তাকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই দায় কার? যারা ছাত্র রাজনীতি করছে তাদের নাকি যারা পিছনে বসে ক্ষমতা আর টাকার লোভ দেখিয়ে কলকাঠি নাড়ছে তাদের? ছাত্র রাজনীতির নামে অপরাজনীতি বন্ধের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বুয়েট তার একান্ত প্রয়োজন ছিলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলবে, মতের আদানপ্রদান করবে, চিন্তার প্রসার ঘটাবে এটি খুবই স্বাভাবিক বিষয়। তারা রাজনীতিসচেতনও হবে। কিন্তু এখন এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে যেখানে ভিন্নমতের বা বিরোধী মতের নূন্যতম কোন স্থান নেই। সর্বত্র ক্ষমতা দেখিয়ে অপরজনকে দুর্বল করে রাখা তথা অসুস্থ প্রতিহিংসার লড়াই। ছাত্রদের রাজনীতি হতে হবে সমগ্র ছাত্রদের কল্যানে। কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট দলের নির্দিষ্ট মতাদর্শের হয়ে অন্যান্য সাধারণ ছাত্রদের যারা কোন দলের লেজুড়বৃত্তিক সংগঠনের কর্মী নয় তাদের উপর চড়াও হওয়ার তো কোন যৌক্তিকতা থাকতে পারেনা।
বহুবছরের গৌরবোজ্জ্বল ছাত্র রাজনীতির ইতিহাস আজ কলুষিত, কলংকিত। অথচ এই ছাত্ররাই একদিন স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে। এমনকি বর্তমান সময়ে এসেও দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে সকল ছাত্রের পক্ষে আন্দোলন করেছে তারা শিক্ষায় অযাচিত ভ্যাট আরোপের বিরুদ্ধে এবং তারা নিরাপদ সড়কের জন্যেও জনস্বার্থে
আন্দোলন করেছে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে অপরাজনীতি না করেও কিভাবে দেশের সামগ্রিক প্রয়োজনে কিভাবে একত্রিত হওয়া যায়। কই তারা তো কোন রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে কিছু করেনি।
আসলে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা কোন সমাধান নয়। প্রয়োজন ছাত্র রাজনীতি কলুষমুক্ত করা এবং এজন্য প্রয়োজন ছাত্র রাজনীতি সংস্কারের। এবিষয়ে অতিশিঘ্র কিছু পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। যেমন- বিশ্ববিদ্যালয় হলে নিয়মিত নির্বাচন করতে হবে। দেশে যেমন গণতন্ত্র দরকার, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতেও গণতন্ত্র আবশ্যক। স্বাধীন ভাবে মত প্রকাশের অধিকার থাকতে হবে হতে পারে সেটা  ভিন্নমত। তবুও সেই অধিকার দিতে হবে সাধারণ ছাত্রদের। এর সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও ভূমিকা রয়েছে। তাদের ও শিক্ষার্থীদের উপর সদা নজরদারী করতে হবে যাতে তারা কোন ধরনের কোন ভুল কাজে জড়িয়ে না পরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.