ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা প্রয়োজন নাকি ছাত্র রাজনীতির নামে সন্ত্রাস?

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার দাবি উঠেছে। এই দায় আমাদের দেশের নোংরা রাজনৈতিক পরিবেশের। যেখানে ছাত্র রাজনীতিও আজ কলংকিত। ছাত্রদের রাজনীতি করা বা না করা পরের বিষয়। তাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ লেখাপড়া করা। অথচ যেকারনে তাদেরকে ছাত্র বলা হচ্ছে তারা সেটি বাদ দিয়ে অন্য আর সবকিছুই করছে। ছাত্রনং অধ্যয়নং তপঃ, অর্থাৎ ছাত্রের কাছে অধ্যয়নই তপস্যা। কিন্ত এই চিরায়ত সত্যটি যেন ভুলতে বসেছে আমাদের ছাত্র সমাজ। Pen is mightier than sword বা কলম তরবারির চেয়েও শক্তিশালী-  অথচ এক সময়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতার এই টপিকটি এখন তার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। এটি এখন নিছকই মূল্যহীন বা কথার কথায় পরিণত হয়েছে কেননা ছাত্ররা রাজনীতির আড়ালে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরেছে।
আজকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে) একদল শিক্ষার্থী রীতিমতো মাস্তানি করে বেড়ায়। বছরের পর বছর ধরে ছাত্র রাজনীতির নামে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার বদলে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।  বর্তমান সরকারের ছত্রছায়ায় তারা পৈশাচিক কর্মকান্ডে মেতে উঠেছে। আর এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ বলি হল বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার।
রাজনীতির শক্তি হচ্ছে নৈতিক, আর এখন ছাত্র রাজনীতির নামে যা চলছে তার শক্তি হচ্ছে দৈহিক, যাকে পেশিশক্তি বা পশু শক্তিও বলা যায়। এ পশু শক্তিরই প্রকাশ দেখতে পাওয়া যায় সরকার বা সরকারের কাজের কোনো সমালোচনা বা এর বিরুদ্ধ মত প্রকাশ করলে। তখনই সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট একদল ছাত্র সমালোচনাকারী বা বিরুদ্ধবাদীদের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালায়।
ছাত্র রাজনীতির নামে এখন যা করা হয় তা একেবারেই অপরাধমূলক সন্ত্রাসী কাজ। দেশের শিক্ষিত সচেতন মানুষ জানে ছাত্র নামধারী  ছাত্রলীগের আসল কাজ হল তাদের পৃষ্ঠপোষক বড় দলের লেজুড়বৃত্তি। তাদের নামে মিটিং-মিছিল করা, দলের শীর্ষ নেতানেত্রীদের গুণগান করা, সংবর্ধনা বা খেতাব প্রদান, বিরোধী দল বা পক্ষের সভা-সমিতি ভণ্ডুল করা, ক্যাম্পাস বা হল থেকে বিরোধী পক্ষকে বিতাড়িত করাসহ তাদের শীর্ষ নেতানেত্রীর সমালোচনাকারীদের মারধর করার মতো অন্যায়, অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক কাজ করাই তাদের মূলমন্ত্র। তারা মূলত কাজ করে ক্ষমতা ও অর্থ-সম্পদ অর্জনের জন্য। যার প্রকাশ ঘটে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সিট বাণিজ্য, ভর্তিবাণিজ্যসহ হরেকরকমের অবৈধ পথে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে। এমনকি কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ছাত্রলীগের  শীর্ষ পদগুলো বিক্রি হয় বলে শোনা যায়। এমন একটি ঘটনা সম্প্রতি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচার পেয়েছে। আর এসব কারনেই সাধারণ ছাত্ররা এবং দেশের সাধারণ মানুষ আজ ছাত্র রাজনীতি চায়না।
অথচ এই ছাত্র রাজনীতি ছিল একসময় জৌলুসময় এবং অত্যন্ত সম্মানের। তখন ছাত্ররা আবেগ দিয়ে কাজ করত। দেশের জন্য কিছু করার জন্য তারা ছিলো দৃঢ় প্রত্যয়ী।
স্বেচ্ছায় স্বপ্রণোদিতভাবে দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকে আমাদের তরুণ ছাত্রসমাজ অতীতে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। দেশের মানুষও চায় আজকের তরুন ছাত্ররাও কোনো লোভ-লালসায় তাড়িত না হয়ে তারা অতীতের ছাত্র রাজনীতির ঐতিহ্য বহাল রাখবে।
তাই দেশ ও মানুষের স্বার্থেই রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় কাজকর্মের ব্যাপারে ছাত্রদের মতামত প্রদান এবং আন্দোলন, বাধা-নিষেধমুক্ত থাকা দরকার। তাছাড়া মুক্ত আলোচনা, স্বাধীন মতামত প্রকাশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার সব নাগরিকের মতো তরুণ ছাত্রদেরও আছে।
ছাত্র রাজনীতি নয় বরং ছাত্র রাজনীতির নামে যে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতি শুরু হয়েছে তা বন্ধ হওয়া উচিত। কেননা ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে শিক্ষাঙ্গনে প্রশাসনিক দখলদারিত্ব বেড়ে যেতে পারে। তবে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে যে অপরাজনীতি চলছে তা অচিরেই বন্ধ হওয়া উচিত। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন এতটাই বেপরোয়া যে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার দাবি তুলতে বাধ্য হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কারণ বর্তমানে ছাত্রলীগ ছাত্র রাজনীতির কোন নিয়ম বা ব্যাকরণ অনুসরণ করছে না।
অপরাজনীতিকে দমন করতে হলে সুস্থ্য ধারার ছাত্র রাজনীতি প্রয়োজন। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করলে কোন সমাধান হবেনা বরং অপরাধী ছাত্র সংগঠন বন্ধ করে দিতে হবে। ছাত্র রাজনীতিতে সুদিন ফেরাতে নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক, পরমতসহিষ্ণু, যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা ছাত্রদের অধিকারের জন্য কাজ করবে।

4 thoughts on “ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা প্রয়োজন নাকি ছাত্র রাজনীতির নামে সন্ত্রাস?

  1. BNP করস?দেশে আয় তারপর বুঝামু রাজনীতি কারে কয়

  2. খাঙ্কির পোলা এত কিছু বলার তুই কে?চুলাকায় নিচে না ? দেশে আসো তোমার চুলকানি সারাইয়া দিমু।

  3. খাকির পোলা বিদেশে বইসা বড় বড় কথা বলস কেন? পারলে দেশে আয় একবার এরপরে তোর কোপায়া লবণ লাগাইয়া দিমু।

  4. তোমারে পাইলেতো ভইরা দিতাম। পারলে দেশে আয় এরপর দেখ কি করি তোর হাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.