বাংলাদেশ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি

বাংলাদেশের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক প্রভাব লক্ষ্যনীয়৷ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি, বেসরকারি মোটামুটি সবক্ষেত্রেই কমবেশি রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে দেখা যায় অনেককেই। সরকারি খাতে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব বা অবৈধ অর্থ প্রদানের সামর্থ বা ঘুষ আদান-প্রদান চাকুরীতে নিয়োগ প্রাপ্তির ভরসাযোগ্য উপায়। এখানে মেধা বা যোগ্যতা আর তেমন কোন বিবেচ্য বিষয় নয়। এরকম শুধু চাকুরির ক্ষেত্রেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতেও চলে রাজনীতির পালাবদলের খেলা। প্রতিপক্ষকে, যেকোন মূল্যে বিতাড়িত করাই মূল লক্ষ্য অথবা একেবারে নিশ্চিহ্ন করা গেলে তো আর কথাই নেই।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বলি হয়েছে অসংখ্য সাধারণ মানুষ। অতীতেও হয়েছে আর এখনো হচ্ছে। রাজনৈতিক মদদে অবৈধভাবে জমি দখল করে কোন নিয়ম না মেনে অধিক মুনাফার আশায় ভবন নির্মান করা হয়। সেইসব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তার অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলে রানা প্লাজা ধ্বসে ১২ শয়ের অধিক নিরাপরাধ শ্রমিক-কর্মীর নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে যে দুর্নীতির কারনে মানুষকে প্রানও দিতে হয়। রানা প্লাজা ধ্বসের পেছনে দুর্নীতির প্রভাব ছিল দিবালোকের মত পরিস্কার। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ ক্ষমতাবানদের সাথে যোগসাজসের মাধ্যমে অবৈধভাবে দখলকৃত জমিতে অবৈধ প্রক্রিয়ায় আইন ও বিধিমালা অমান্য করে নির্মিত ভবনে অবৈধভাবে পরিচালিত পোষাক কারখানায় ঝুঁকি চিহ্নিত হওয়া স্বত্ত্বেও কাজে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করে তড়িৎ মুনাফার লোভে শ্রমিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিটি স্তরে ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থলিপ্সা। আবার এই ঘটনা সামনে আসার পর বিরোধী দলকে দায়ী করা হয় তারা নাকি এই ঘটনায় জড়িত। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই তার বিচার বিশ্লেষণের আগেই প্রতিপক্ষের প্রতি আঙুল তোলা হয়। এটাই যেন সহজে দায় এড়ানোর উপায়।
অবৈধ জমি দখল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা, গনমাধ্যম সহ ব্যবসা বানিজ্যে লাইসেন্স-পারমিট ও সরকারী ক্রয় খাতে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রাধ্যান্য প্রায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। রাজনীতির সাথে ব্যবসার যোগসূত্র উদ্বেগজনক ভাবে বৃদ্ধির কারনে ক্ষমতার অপব্যবহার অপ্রতিরোধ্য রয়ে গেছে। সংসদ সদস্যদের মধ্যে যাদের মূল পেশা ব্যবসা তাদের অনুপাত স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের ১৮ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দশম সংসদে ৫৮ শতাংশে উন্নীত হওয়া যেমন উদ্বেগজনক,একই ভাবে হতাশাব্যাঞ্জক সংবিধান-পরিপন্থী অবস্থান নিয়ে জাতীয় বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার অব্যাহত সুযোগ।
সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রার্থী রাজনীতিবিদদের টাকার পাহাড় গড়ার যে চিত্র প্রকাশিত হয়েছে, তার মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকাকে মুনাফা অর্জনের উপায় হিসেবে ব্যবহারের প্রবনতার প্রতিফলন ঘটেছে। এখানে  জনস্বার্থে কাজ করার কোন বালাই নেই। বৈধ আয়ের সাথে সম্ভাব্য অসামঞ্জস্যের চিত্র প্রকাশের কারনে ক্ষুব্ধ ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবদার নিয়ে হাজির হন, তেমনিভাবে নির্বাচন কমিশনও এ তথ্য প্রকাশ বন্ধ করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার ঘোষনা দেয়। তার মানে কি হল? জোর বা প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন কমিশনকেও প্রভাবিত করা অসম্ভব কিছু নয়। প্রভাবশালী মন্ত্রীগণ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া কিংবা সম্পদ অর্জনের এ প্রবনতাকে শুধু সমর্থনই করেননি, বরং বিষয়টিকে একটি সমস্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেবার মত সাহসিকতাও তারা দেখাতে পারেন না। পাছে কেচো খুড়তে সাপ বের হওয়ার ভয় তো তাদের মনেও কাজ করে।
বাংলাদেশের এই বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিপত্তি বিস্তারের ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজন সৎ ও যোগ্য  ব্যক্তিদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং পুরনো প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সকলে একসাথে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করার। যেখানে দুর্নীতির কোন স্থান থাকবে না।

4 thoughts on “বাংলাদেশ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি

  1. ক্ষমতা আমাদের যা মনে চায় তাই করমু তোর এতো সমস্যা কেন ?

  2. তুই এসব বইলা বেড়াবি তোরে আমরা ছাইড়া দিমু নাকি পাগল । তোরে আদর কইরা গোয়া দিমু ।

  3. শুওরের বাচ্চা কাইটটা নদিতে ভাসাইয়া দিমু । খাঙ্কির ছাওয়াল তুই আগে দেশে আয়।

  4. এসব বইলা তুই এদেশে থাকতে পারবি না। তোর কল্লা ফালাইয়া দিমু।

Leave a Reply

Your email address will not be published.